1. mail@tathagataonline.net : admi2017 : নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

বুদ্ধের উদান গাথা

সুলেখা বড়ুয়া 
  • আপডেট মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

মানবপুত্র সিদ্ধার্থ কল্প কল্পান্তরের সাধনায় পরিপূর্ণতা লাভ করে যখন তিনি বুদ্ধ হলেন, তখন তার অন্তর্নিহিত প্রবল আনন্দোচ্ছাস স্বতঃ উৎসারিত উদান গানে মন্ত্রিত হল সেই সুনির্জন বনভূমি –

অনেক জাতি সংসারং- সন্ধাবিসসং অনিব্বিসং, গহকারকং গবেসন্তো- দুক্ খা জাতি পুনপ্পুনং, গহকারক দিট্’ঠোসি পুসগেহংন কাহসি সব্বাতো ফাসুকা ভগ্’গা গহকুটচি সংখিতং বিসংখারং গতংসিত্তং, তনহানং খয়মজ্জগা, অথাৎ – জন্ম জন্মান্তর পথে ঘুরেছি পাইনি সন্ধান সে কোথা লুকিয়ে আছে, যে এ গৃহ করেছে নির্মাণ পুনঃ পুনঃ দুঃখ পেয়ে দেখা তব পেয়েছি এবার হে গৃহকারক গৃহ রচিতে পারিবে না আর, চুরমার করেছি স্তম্ভ গৃহ ভিত্তিচয়, সংস্কার বিগত চিত্ত, তৃঞ্চা আজি পেয়েছে ক্ষয় ।

জগতের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ মানব, তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ জ্ঞান লাভ করার পর আনন্দপূর্ণ চিত্তে যে প্রথম উদান গাথা মুখ দিয়ে বের করছিলেন, যার কোন বিকল্প ব্যবস্থা নাই । তিনি যে ব্যবস্থায় গৃহ নামে শরীর বা পঞ্চস্কন্ধ তৈরির সমস্ত উপকরণ ধ্বংস করেছেন, এগৃহ, শরীর বা পঞ্চস্কন্ধ তৈরির সমস্ত উপাদান সামগ্রী উৎখাত করেছেন যার কারণে শরীর বা পঞ্চস্কন্ধ সৃষ্টি হবেনা, জন্ম হবেনা, জরা হবেনা, ব্যাধি হবেনা, মরণ হবেনা, অপ্রিয় সংযোগ হবেনা, প্রিয় বিয়োগ হবেনা, ইচ্ছিত বস্তুর অলাভ হবেনা । সংক্ষেপে পঞ্চপাদন স্কন্ধ সৃষ্টি হবেনা ।

অতঃপর খুশি হয়ে যে আসনে বোধিজ্ঞান লাভ করে জগৎপুজ্য বুদ্ধ হলেন, সে আসনে বসে আবার এক সপ্তাহ ভাবনা করলেন, তারপর বজ্রাসনের চারিপার্শ্বে বাছাই করে আরও ছয়টি জায়গায় ছয় সপ্তাহ ভাবনা করে গবেষণায় মানুষের চরিত্র সম্বন্ধে জ্ঞাত হলেন, আর ঠিক তখনই বুদ্ধের মুখে উচ্চারিত হলো দ্বিতীয় উদান গাথা –

কিচ্ছেন মে অধিগতং হলং দানি পকাসিতং রাগ দোস পরিতেহি নাযং ধম্মো সুসম্বুধো, সোত পটিকুল গামিং নিপুণং গম্ভীরং দুদ্দসং অনুং রাগ রত্তান দক্’খিন্তি তমোক্ খন্ধেন আবটা, অর্থাৎ – কষ্টে অধিগত যা প্রকাশে কি কাজ রাগ, দ্বেষ পরায়ণ মানব সমাজ, রাগ দ্বেষ অভিভূত অজ্ঞান অবোধ, এ ধর্ম তাদের নহে সুখ বোধ স্রোত প্রতিকূলগামী নিপুণ গম্ভীর দুরদর্শী অতি সুক্ষ্ম ধর্ম সুগভীর, কেমনে বুঝবে তা বাগাসত্তগণ তমোস্কন্ধে আচ্ছাদিত আবৃত নয়ন ।

ধর্মদেশনার কিংবা প্রচারের কথা চিন্তা করতেই নিরুৎসাহিত বোধ করেন তথাগত বুদ্ধ, কেননা তথাগতের ধর্মের নিগূঢ় তত্ব সাধারণ লোকে বুঝতে পারবেনা, তাদের বোঝবার বৃথা চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজেই শুধু ক্লান্ত হবেন, কেন তিনি জানাতে যাবেন জগতকে সেই মহান সত্য যা তিনি বহু দুঃখে বহু সাধনায় অর্জন করেছেন, কাজ নেই এই বৃথা চেষ্টায় ।

Facebook Comments

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!